গ্রামীণ নারীর স্বাবলম্বিতার গল্প: জয়া রানীর অদম্য যাত্রা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৮ ডিসেম্বর, ২০২৪, ০৮:১২ পিএম

গ্রামীণ নারীর স্বাবলম্বিতার গল্প: জয়া রানীর অদম্য যাত্রা

 কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ি উপজেলার রাবাইতারী গ্রামের মেয়ে জয়া রানী দারিদ্র্য আর সামাজিক বাধাকে পেছনে ফেলে স্বাবলম্বিতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। একজন কলেজ শিক্ষার্থী হয়েও নিজের পরিবারের আর্থিক সংকট দূর করতে এবং নিজের স্বপ্ন পূরণে তিনি বেছে নিয়েছেন কার চালানোর পেশা। তার এই উদ্যোগ প্রমাণ করেছে যে, আত্মপ্রত্যয় আর কঠোর পরিশ্রম মানুষকে সাফল্যের পথে এগিয়ে নিতে পারে।  

 

জয়া রানী কুড়িগ্রাম কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে দুই মাসের ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেন। প্রশিক্ষণের জন্য সার্বিক সহযোগিতা করেন মহিদেব যুব সমাজ কল্যাণ সমিতি (সিএনবি)-এর চাইল্ড নট ব্রাইড (সিএনবি) প্রকল্প। তবে তার এই যাত্রাপথ ছিল চ্যালেঞ্জে ভরা। তার পরিবার আর্থিক সংকটের কারণে তাকে অল্প বয়সে বিয়ে দিতে চাইলেও জয়া রানী তার দৃঢ় মনোবলের কারণে সেই পরিকল্পনা আটকে দেন।  

 

প্রশিক্ষণ শেষে নিজের জীবিকা গড়ে তোলার জন্য তিনি এগিয়ে যান গ্রামের এক ব্যক্তি, সার্জেন্ট আতাউর রহমানের কাছে। তার ব্যবহৃত একটি গাড়ি গ্যারেজে পড়ে থাকত। জয়া রানী সেই গাড়ি চালানোর অনুমতি চাইলে আতাউর রহমান তার ইচ্ছাশক্তি আর অদম্য চেষ্টায় মুগ্ধ হয়ে গাড়িটি ভাড়ায় চালানোর সুযোগ দেন। বর্তমানে তিনি কুড়িগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় এই গাড়ি চালাচ্ছেন।  

জয়া রানীর আয়ের একটি অংশ গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ব্যবহার করা হয় এবং বাকি টাকা তিনি তার পরিবারের জন্য রেখে দেন। এই আয়ের মাধ্যমে তার পরিবার এখন দারিদ্র্যমুক্তির পথে।  

নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে জয়া রানী বলেন, “আমার স্বপ্ন বিদেশে গিয়ে উবার চালানো। আমি সরকারের সহযোগিতা পেলে এই স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে পারব।” 

 

আতাউর রহমান বলেন, “জয়া রানীর ইচ্ছাশক্তি অসাধারণ। তাকে সহায়তা করতে পেরে আমি গর্বিত। তার মতো নারীরা সমাজের জন্য অনুপ্রেরণা। আমি আশা করি, এমন আরও অনেক নারী তাদের নিজস্ব সক্ষমতা প্রমাণ করবেন।” 

 

মহিদেব যুব সমাজ কল্যাণ সমিতি (সিএনবি)-এর ফুলবাড়ি উপজেলার ইয়ুথ গ্রুপ লিডার ইলিয়াস আলী জানান, জয়া রানীর এই প্রচেষ্টার কারণে তাকে ইউনিয়ন যুব সংগঠনের তথ্য ও প্রচার সম্পাদক হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, “জয়া রানী শুধু আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হননি, বরং নারীদের জন্য সাহসের এক নতুন দৃষ্টান্ত তৈরি করেছেন।”

 

জয়া রানীর গল্প শুধুমাত্র একজন নারীর সাফল্যের কাহিনি নয়, বরং এটি গ্রামীণ নারীদের নিজেদের পায়ে দাঁড়ানোর পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ। তার অদম্য মনোভাব, আত্মবিশ্বাস এবং কঠোর পরিশ্রম সমাজে নারীদের ভূমিকা নতুনভাবে চিহ্নিত করছে।