চট্টগ্রাম বন্দরের পতেঙ্গা কন্টেইনার টার্মিনাল (পিসিটি) চুক্তি বাতিল এবং এনসিটিসিসি সহ বন্দরের যে কোনো অংশকে প্রাইভেট সেক্টরে প্রদান বন্ধের দাবিতে প্রতিবাদ জানিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর সংযুক্ত শ্রমিক কর্মচারী ফেডারেশন। এ নিয়ে ৭ ডিসেম্বর (শনিবার) চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের হলরুমে এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনের সভাপতিত্ব করেন ফেডারেশনের সভাপতি মো. হারুন। লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন তসলিম উদ্দীন সেলিম এবং আলোচনায় অংশ নেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক কাজী শেখ নুরুল্লাহ বাহার।
বক্তব্য ও উপস্থিত ব্যক্তিত্ব
সংবাদ সম্মেলনের প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় শ্রমিক সম্পাদক এবং চট্টগ্রাম বিভাগীয় শ্রমিক দলের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব এ এম নাজিম উদ্দিন। তিনি বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রাইভেটাইজেশনের উদ্যোগের কঠোর সমালোচনা করে বলেন, “যেকোনো উদ্ভূত পরিস্থিতির জন্য বন্দরের কর্তৃপক্ষ এবং বর্তমান সরকার দায়ী থাকবে।”
এতে আরও উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় শ্রমিক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুর রহমান মজুমদার, দপ্তর সম্পাদক মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, এবং ফেডারেশনের নেতৃবৃন্দ। উপস্থিত নেতৃবৃন্দের মধ্যে ছিলেন ইব্রাহিম খোকন, আবুল কাসেম, মো. ইকবাল, মো. স্বপন, মোস্তাফিজুর রহমান মজু, ইমাম হোসেন খোকন, মো. হাসান, হুমায়ুন কবিরসহ আরও অনেকে।
দাবি ও কর্মসূচি
সংবাদ সম্মেলনে শ্রমিক কর্মচারীরা নিম্নলিখিত দাবিগুলো তুলে ধরেন:
১. শূন্য পদে দ্রুত নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করা: বন্দরের ৪,৫০০ শূন্য পদে দ্রুত লোক নিয়োগ শুরু করতে হবে।
২. আউটসোর্সিং বন্ধ করা: আউটসোর্সিং পদ্ধতিতে নিয়োগ প্রক্রিয়া বন্ধ করতে হবে।
৩. প্রাইভেটাইজেশন বন্ধ করা: বন্দরের প্রাইভেটাইজেশনের সকল প্রচেষ্টা বাতিল করতে হবে।
৪. শ্রমিক অধিকার নিশ্চিত করা:
- শ্রমিকদের দুই মাসের ৬০ দিনের গ্র্যাচুইটি প্রদান।
- মাসিক প্রভিডেন্ট ফান্ড কেটে রাখা।
- শ্রমিকদের নিজস্ব পরিচয়পত্র প্রদান।
- উইন্সম্যান ও ক্রেন অপারেটরদের পদের মর্যাদা অনুযায়ী সুবিধা প্রদান।
৫. শ্রমিকদের সম্মিলিত সংগঠন নিশ্চিত করা: স্টিভিডোর স্টাফদের শ্রম শাখায় অন্তর্ভুক্ত করা।
৬. লেসিং শ্রমিকদের শিফট ভিত্তিক বুকিং: এনসিটিসিসিতে তিন শিফটে লেসিং শ্রমিকদের বুকিং এবং উৎপাদনশীলতার ভিত্তিতে মজুরি নির্ধারণ।
ঘোষিত কর্মসূচি
চট্টগ্রাম বন্দর প্রাইভেটাইজেশনের উদ্যোগ বন্ধে আগামী ২২ ডিসেম্বর ২০২৪ তারিখে বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান বরাবর মিছিল সহ স্মারকলিপি প্রদান করা হবে।
অন্তর্বর্তী সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
সংগঠনের নেতৃবৃন্দ দাবি করেছেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার রুটিন কাজ পরিচালনা করবে, কিন্তু বন্দরের প্রাইভেটাইজেশন বা এর পরিচালনা সম্পর্কিত কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার নেই। তারা স্পষ্ট করেছেন, নির্বাচিত সরকার ছাড়া অন্য কোনো সরকার এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিলে তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হবে না।
সংবাদ সম্মেলন থেকে শ্রমিক কর্মচারীরা সরকারের একতরফা সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে বলেন, “বন্দরের বেসরকারীকরণ প্রক্রিয়ার যেকোনো উদ্যোগ শ্রমিকরা মেনে নেবে না।”
চট্টগ্রাম বন্দর সংযুক্ত শ্রমিক কর্মচারী ফেডারেশনের এই সংবাদ সম্মেলন প্রমাণ করে, শ্রমিকরা বন্দরের উন্নয়ন এবং তাদের নিজস্ব অধিকার রক্ষায় দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। তাদের দাবি পূরণে উদ্যোগ না নিলে শ্রমিক আন্দোলন আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।