নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধের আহ্বানে বাদাবন সংঘ ২৫ নভেম্বর থেকে শুরু করেছে ১৬ দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষকাল ক্যাম্পেইন। "নারীর প্রাপ্য, নারীর অধিকার, ন্যায্য হিস্যা বাপের ভিটার" মূল ভাবনায় এবারের আয়োজনটি নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন এবং ভূমি অধিকার প্রতিষ্ঠার উপর গুরুত্বারোপ করেছে।
এই পক্ষকাল উদযাপন উপলক্ষে বাদাবন সংঘ জাতীয় ও প্রান্তিক পর্যায়ে বিভিন্ন কর্মসূচি আয়োজন করেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল ২৭ নভেম্বর বুধবার ঢাকার দৃকপাঠ মিরতাজ ভবনে সারাদিনব্যাপী আয়োজন। অনুষ্ঠানের প্রথম পর্বে ছিল আর্টক্যাম্প, যার মূল উদ্দেশ্য শিল্পকর্মের মাধ্যমে নারীর প্রতি সহিংসতা রোধে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করা।
আর্টক্যাম্পে সৃজনশীল প্রতিরোধ
সকাল ১১টায় শুরু হওয়া আর্টক্যাম্পে অংশ নেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, ইউনিভার্সিটি অব ডেভেলপমেন্ট অলটারনেটিভ এবং নারায়ণগঞ্জ আর্ট ইনস্টিটিউটের প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা। ক্যাম্পে নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধে তাদের অনুভূতি প্রকাশ করেন আমন্ত্রিত শিল্পী রুপশ্রী হাজং, রাজীব শীল এবং আহসানা অঙ্গণা। তারা উল্লেখ করেন, শিল্পীরা তাদের শিল্পকর্মের মাধ্যমে এই আন্দোলনকে আরও কার্যকর করতে পারে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মানবাধিকার কর্মী জাকিয়া শিশির, সাংগাত বাংলাদেশের কো-অর্ডিনেটর সোহানা আহমেদ এবং বাদাবন সংঘের নির্বাহী পরিচালক লিপি রহমান। তাদের বক্তব্যে উঠে আসে নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধে সমাজের প্রতিটি স্তরে সচেতনতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা।
নারীর ভূমি অধিকার নিয়ে আলোচনা ও শিক্ষামূলক উদ্যোগ
বাদাবন সংঘ ২০১৬ সাল থেকে নারীর ভূমি অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করে আসছে। এর ধারাবাহিকতায়, এই আয়োজনে নারীর উত্তরাধিকার স্বত্ব প্রাপ্তি বিষয়ে একটি ভিডিও টিউটোরিয়াল প্রকাশ করা হয়। এই ভিডিওটির মাধ্যমে নারীরা তাদের জমি ও সম্পত্তির অধিকার আদায়ের পদ্ধতি সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা পাবেন।
দিনের দ্বিতীয় পর্বে আয়োজিত আলোচনা সভায় অংশ নেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ, প্রশিকা, স্পেস, রিক, লাইট হাউজ এবং আওয়াজ ফাউন্ডেশনের প্রতিনিধিরা। তারা নারীর ভূমি অধিকার ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করার মাধ্যমে সহিংসতা প্রতিরোধে বাদাবন সংঘের উদ্যোগের প্রশংসা করেন।
আদিবাসী নারীদের সাংস্কৃতিক অংশগ্রহণ
অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে আদিবাসী নারীদের গানের দল এস মাইনরের পরিবেশনায়। তাদের পরিবেশনা নারীর সংগ্রাম ও সাহসিকতাকে তুলে ধরে উপস্থিত দর্শকদের অনুপ্রাণিত করে।
নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে বাদাবন সংঘের এই উদ্যোগ কেবল তাৎক্ষণিক সচেতনতা নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদে নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন ও ভূমি অধিকারের প্রশ্নকে কেন্দ্র করে একটি শক্তিশালী সামাজিক আন্দোলনের রূপ নিচ্ছে। নারীকে তার ন্যায্য অধিকার ও মর্যাদা দেওয়ার মধ্য দিয়েই সমাজে সত্যিকার সমতা প্রতিষ্ঠা সম্ভব।