logo

বেড়াতে যাওয়ার টাকার জন্য নানাকে হত্যা


নিজস্ব প্রতিবেদক   প্রকাশিত:  ২৩ নভেম্বর, ২০২২, ১১:৪৩ এএম

বেড়াতে যাওয়ার টাকার জন্য নানাকে হত্যা

রাজধানীর চকবাজারের বাইতুন নুর মসজিদের সভাপতি মুনসুর আহম্মেদ হত্যার ঘটনার রহস্য উদঘাটন করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ। হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকায় তার নাতি-নাতনিসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

 

ঘটনার পর ১৯ নভেম্বর নিহতের ছেলে আসগার আহম্মেদ বাদী হয়ে চকবাজার থানায় ডাকাতিসহ হত্যা মামলা দায়ের করেন। এই মামলার তদন্ত করতে গিয়ে বেরিয়ে আসে মনসুর আহম্মেদ হত্যায় তার নাতি-নাতনিই জড়িত। মঙ্গলবার (২২ নভেম্বর) রাতে বকশিবাজার, চাঁদপুর ও মুন্সিগঞ্জ থেকে মনসুর আহম্মেদের দুই নাতি ও নাতনিসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে চকবাজার থানা পুলিশ।

 

পুলিশ জানিয়েছে, মুনসুর আহম্মেদ তার নিজের নাতি ও নাতনির হাতেই খুন হয়েছেন। ঘুরতে যাওয়ার টাকা জোগাড় করতে নানার কাছে থাকা টাকা ডাকাতির মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করেন তারা। আর এ পরিকল্পনায় যুক্ত হন নাতনির ছেলে বন্ধুসহ আরও কয়েকজন। মুনসুর আহম্মেদের শরীরে চেতনানাশক ইনজেকশন পুশ করে অচেতন করে টাকা-পয়সা হাতিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করেন তারা।

 

পরিকল্পনা অনুযায়ী, বিকল্প চাবি দিয়ে দরজা খুলে চকবাজার খাজে দেওয়ান রোডের ফার্স্ট লেনের ৬ তলা ভবনের দোতলায় প্রবেশ করে তারা। সে সময় ৭০ বছরের বেশি বয়সী হাজী মনসুর আহম্মেদ বাসায় একাই ছিলেন। পরিবারের বাকি সদস্যরা একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন।

 

বাসা ফাঁকা থাকার সুযোগে গত ১৭ নভেম্বর রাতে ডাকাতির উদ্দেশ্যে ওই বাসায় প্রবেশ করেন তারা। পরে মনসুর আহম্মেদকে অচেতন করার জন্য ইনজেকশন পুশ করতে গেলে তিনি বাধা দেন। আর তখনই তাকে মারধর শুরু করেন ডাকাতি করতে আসা তরুণরা। এতে মারধরে মারা যান মনসুর আহম্মেদ। পরে তরুণরা তার বাসা থেকে ৯২ হাজার টাকা নিয়ে যান। গ্রেপ্তাররা হলেন—মনসুর আহম্মেদের মেয়ের মেয়ে আনিকা তাবাসসুম ও ছেলে শাহাদাত মুবিন আলভী। এছাড়া বাকি তিনজন আনিকার ছেলে বন্ধু রাজু ও রাজুর ভাই রায়হান এবং তাদের পরিচিত সাঈদ।

 

বুধবার (২৩ নভেম্বর) দুপুরে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ডিএমপির যুগ্ম-পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম) বিপ্লব বিজয় তালুকদার।

 

বিপ্লব বিজয় তালুকদার বলেন, ঘটনাস্থলে একটি সিরিঞ্জ পাওয়া যায়। এই সিরিঞ্জকে কেন্দ্র করে তদন্ত মোড় নেয়। শুরুতে আমরা ডাকাতিসহ খুনের মামলা নিলেও পরবর্তীতে নাতি-নাতনিদের পরিকল্পনায় খুনের প্রমাণ পাই। নিহতের নাতনি আনিকা ডেন্টালে পড়াশোনা করেন। তিনিই মূল পরিকল্পনাকারী। আনিকার ভাই আলভী এবং তার ছেলে বন্ধুরা সেদিন ওই বাসায় গিয়েছিলেন। ঘুরতে যাওয়ার জন্য তাদের টাকার প্রয়োজন ছিল। সেই টাকা জোগাড় করতেই এই পরিকল্পনা করা হয়।

 

তিনি আরও বলেন, ৯২ হাজার টাকা লুট করা হয়। এর মধ্যে ৬২ হাজার টাকা আনিকার বাসা থেকে জব্দ করা হয়েছে। পারিবারিক মূল্যবোধ ও সামাজিক অবক্ষয়ের কারণে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। তাদের মূল উদ্দেশ্য ছিল টাকা হাতিয়ে নেওয়া। আনিকা ও আলভী পরিবার থেকে হাতখরচ হিসেবে খুবই সামান্য টাকা পেতেন। ঘুরতে যাওয়ার জন্য অতিরিক্ত টাকা প্রয়োজন থেকে এই পরিকল্পনা করেন। ঘটনাক্রমে হত্যার শিকার হন মনসুর আহম্মেদ।

 

নিহত মনসুর আহম্মেদের স্ত্রী, তিন ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। মেয়ের দুই সন্তান এই পরিকল্পনায় জড়িত। এই ঘটনায় আনিকা ও আলভী জড়িত থাকার বিষয়টি পরিবারের সদস্যরা বুঝতে পারলে তা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন, জড়িতদের ডিজিটাল ফরেনসিক ও সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করে। কার কী দায় রয়েছে তা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকারও করেছেন পাঁচজন।