logo

টাঙ্গাইলের ক্রীড়াঙ্গনে আলো ছড়ানো নারী কোচ কামরুন্নাহার মুন্নি


নিজস্ব প্রতিবেদক   প্রকাশিত:  ০৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ০১:০৯ পিএম

টাঙ্গাইলের ক্রীড়াঙ্গনে আলো ছড়ানো নারী কোচ কামরুন্নাহার মুন্নি

টাঙ্গাইলের বেড়াডোমায় ২০১০ সালে প্রতিষ্ঠিত মোনালিসা উইমেন স্পোর্টস একাডেমি এখন শুধু ফুটবল প্রশিক্ষণের স্থান নয়, এটি হয়ে উঠেছে বাল্যবিবাহ রোধ ও নারীর ক্ষমতায়নের এক আলোকবর্তিকা। এই উদ্যোগের পেছনে আছেন স্কুলশিক্ষিকা ও ফুটবল কোচ কামরুন্নাহার মুন্নি।

কামরুন্নাহার মুন্নি শুধু মাঠে মেয়েদের খেলোয়াড় হিসেবে গড়ে তুলছেন না, পাশাপাশি তাদের জীবনে বড় পরিবর্তন আনছেন। বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে লড়াই করে তিনি এ পর্যন্ত প্রায় ৩৮ জন মেয়েকে বাল্যবিয়ে থেকে রক্ষা করেছেন। তার একাডেমিতে নিয়মিত ফুটবল প্রশিক্ষণের পাশাপাশি মেয়েদের থাকা-খাওয়া ও অনুশীলনের ব্যবস্থাও তিনি নিজ দায়িত্বে করেছেন। বর্তমানে একাডেমির ছাত্রী সংখ্যা ৩৫ জন।

২০১০ সালে স্কুলশিক্ষিকা হিসেবে কর্মজীবন শুরু করার সময়ই তিনি দেখেন, তার ছাত্রীরা অল্প বয়সেই সংসারে ঢুকে পড়ছে। তখন থেকেই তিনি বাল্যবিবাহ ঠেকানোর কৌশল হিসেবে ফুটবলকে বেছে নেন। শুরুতে সমাজের বিরূপ প্রতিক্রিয়ার মুখে পড়লেও থেমে যাননি। এক সময় তার এই ‘পাগলামি’কে মানুষ স্বীকৃতি দিতে শুরু করে।

তার একাডেমি থেকে গড়া ফুটবলাররা জাতীয় পর্যায়েও সাফল্য পেয়েছে। বয়সভিত্তিক ও সিনিয়র টিমে বর্তমানে একাডেমির চারজন ফুটবলার খেলছেন। বিকেএসপিতেও ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন আট নারী ক্যাডেট ফুটবলার। এ ছাড়া বাংলাদেশ গেমস ও জাতীয় রাগবিতেও একাডেমির মেয়েরা পদক জিতেছে।

কামরুন্নাহার মুন্নি বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) অধীনে এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি) বি ডিপ্লোমা কোচেস কোর্স সম্পন্ন করেছেন। এর আগে সি লাইসেন্স কোর্স ও বিকেএসপিতে কোচেস ট্রেনিং করেছেন।

তার প্রচেষ্টা দেশ ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও প্রশংসিত হয়েছে। কামরুন্নাহারকে নিয়ে নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র ৭৪তম কান চলচ্চিত্র উৎসবে বাণিজ্যিক শাখায় পুরস্কার অর্জন করে। ফলে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে তার সংগ্রামের কথা বিশ্বমঞ্চে পৌঁছে যায়।

নিজের কাজের প্রসঙ্গে কামরুন্নাহার মুন্নি বলেন, “মেয়েরা খেলতে চায়, কিন্তু অনেক পরিবার এখনো তাদের মাঠে আসতে দিতে চায় না। আমি বিশ্বাস করি—খেলার মাধ্যমেই বাল্যবিয়ে রোধ করা সম্ভব। ভবিষ্যতে আরও বেশি মেয়েকে খেলাধুলার মাধ্যমে সচেতন করতে চাই।”

তার স্বামী আনোয়ার সাদাত উজ্জ্বল ও ব্যবসায়ী মির্জা মাসুদ রুবেল একাডেমিকে আর্থিকভাবে সহযোগিতা করছেন। তারা মনে করেন, মুন্নির এই উদ্যোগ শুধু খেলাধুলায় নয়, সমাজ পরিবর্তনের জন্যও এক বড় উদাহরণ।