নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ০৯ অক্টোবর, ২০২২, ০৮:১৬ এএম

বাজারে সকল ধরনের নিত্যপণ্যের দাম আকাশছোঁয়া। বাড়তি দাম জনজীবনে বাড়তি চাপ হয়ে ভোগান্তি নিয়ে এসেছে। নির্মাণসামগ্রীর অপরিহার্য উপকরণ বাঁশের দামও পাল্লা দিয়ে বেড়েছে।
বিপুল পরিমাণে চাহিদা থাকায় রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে গড়ে উঠেছে বাঁশের বাজার। বিশেষ করে মেরুল বাড্ডা, মেরাদিয়া, শনির আখড়া, সাইনবোর্ড, কল্যাণপুর ও নতুন বাজার এলাকায় বাঁশের বড় বড় বাজার ও দোকান গড়ে উঠেছে। এসব বাজার ঘুরে দেখা গেছে, গত কয়েক বছরের তুলনায় বাঁশের দাম প্রায় দ্বিগুণ বেড়েছে।
ব্যবসায়ীদের দাবি, সরবরাহ কম থাকার পাশাপাশি পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় রাজধানীর বাঁশের বাজারে দামের প্রভাব পড়েছে। তারা বলছেন, কিনতেই হচ্ছে বেশি দামে। তাই বিক্রিও করতে হচ্ছে বেশি দামে।
গ্রামে বাঁশের ব্যাপক ব্যবহার হলেও শহরে কিছুটা ভিন্ন। রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন শহরের ভবন নির্মাণকাজে বাঁশের ব্যবহার আগে থেকেই রয়েছে। এছাড়া প্রতিটি কবরে ব্যবহার করতে হয় বাঁশ। অন্যদিকে, ফার্নিচার ও কারুশিল্পে তো বাঁশের ব্যবহার আছেই।
বাঁশের বাজার ঘুরে দেখা যায়, বরাক, মূলী, রেঙ্গুনি, দুলা, টেংরি, মাহালসহ বিভিন্ন জাতের বাঁশ পাওয়া যাচ্ছে। কিন্তু, বাজারে সবচেয়ে বেশি চাহিদা বরাক বাঁশের। এসব বাঁশের বেশিরভাগ আসে টাঙ্গাইল, শেরপুর, দিনাজপুর, বগুড়া, ময়মনসিংহ, নরসিংদী, কিশোরগঞ্জ, পার্বত্য চট্টগ্রাম ও সাতক্ষীরা থেকে।
মেরুল বাড্ডার বাঁশ বিক্রেতা লতিফুর রহমান জানান, ভালো মানের বাঁশ এখন পাওয়াই মুশকিল। এর মধ্যে বরাক বাঁশের চাহিদা রাজধানীতে বেশি। কারণ, এগুলো অনেক শক্ত হয়। গিট বেশি থাকে, ভেতরে ফাঁপা কম। ফলে নির্মাণাধীন ভবনে এই বাঁশ ব্যবহার হয় বেশি। ৩৫ থেকে ৪৫ ফুটের বরাক বাঁশ প্রতি পিস আমরা ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকায় বিক্রি করি। কিছুদিন আগেও যা ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকায় বিক্রি হতো।
তিনি বলেন, সব ধরনের বাঁশের দামই বাড়তি যাচ্ছে। ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা প্রতি পিস, এমন বাঁশের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। এছাড়া নির্মাণকাজ যখন বেশি চলে, মূলত সেই সময়ে বাঁশ বিক্রি বেড়ে যায়। চাঁটাই-বেড়া তৈরির কাজে ব্যবহৃত বাঁশগুলো তুলনামূলক কম মজবুত অর্থাৎ মোটা না হলেও চলে। এসব বাঁশের দাম তুলনামূলক কম।
সাইনবোর্ড এলাকার খুচরা বাঁশ বিক্রেতা নাইমুল ইসলাম জানান, আগে যে বাঁশ ২০০ থেকে ২৫০ টাকায় বিক্রি হতো, সেই বাঁশ এখন ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মাঝে একই বাঁশ ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকাতেও বিক্রি হয়েছে।