নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ০৭ ডিসেম্বর, ২০২৪, ০৯:১২ পিএম

চট্টগ্রামের প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, সমাজবিজ্ঞানী ড. অনুপম সেন, শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে পদত্যাগ করেছেন। কয়েকদিন ধরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে চলা বিক্ষোভের পর, উপাচার্য সহ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য কাজী শামীম সুলতানা এবং কোষাধ্যক্ষ তৌফিক সাঈদও পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন।
৬ ডিসেম্বর, শুক্রবার রাতে, বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ ইফতেখার মনির গণমাধ্যমকে পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ইফতেখার মনির জানান, পদত্যাগপত্রে উপাচার্য ড. অনুপম সেন তার বার্ধক্যজনিত কারণে দায়িত্ব পালনে অনীহা প্রকাশ করেছেন। এছাড়া উপ-উপাচার্য ও কোষাধ্যক্ষও ব্যক্তিগত কারণে পদত্যাগ করেছেন বলে উল্লেখ করেছেন।
এই পদত্যাগের পেছনে মূল কারণ ছিল শিক্ষার্থীদের আন্দোলন। গত কয়েকদিন ধরে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক দুর্নীতি ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ চলছিল। আন্দোলনকারীরা উপাচার্যসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তাদের পদত্যাগের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। এর মধ্যে শুক্রবার বিকেলে, বিশ্ববিদ্যালয়ের জিইসি মোড় ক্যাম্পাসের সামনে এক বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের দাবির পক্ষে শক্তিশালী বক্তব্য দেন এবং পদত্যাগের জন্য সময়সীমা বেঁধে দেন।
বিক্ষোভ চলাকালে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক রাসেল আহমেদ সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং বলেন, "আমরা প্রশাসনিক দুর্নীতির বিরুদ্ধে এই আন্দোলন চালিয়ে যাব, যতদিন না আমাদের দাবি পূর্ণাঙ্গভাবে মেনে নেওয়া হয়।"
উপাচার্য ড. অনুপম সেন, পদত্যাগের পর এক বিবৃতি পাঠান, যেখানে তিনি নিজের রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং পদত্যাগের পেছনে কারণ ব্যাখ্যা করেন। তিনি বলেন, “যেসব ছাত্ররা আমার পদত্যাগ চেয়েছেন, আমি তাদের জানাতে চাই যে, আমি সারাজীবন বৈষম্যের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেছি। আমি কখনোই কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিরূপ মন্তব্য করিনি। আমি ছাত্রদের সম্মান করি, এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের সঙ্গেও সম্মানজনকভাবে আচরণ করেছি।”
ড. অনুপম সেন আরো বলেন, “আমি প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের তহবিল থেকে এক পয়সাও অনৈতিকভাবে গ্রহণ করিনি। আমি এখানে কোনো ধরনের দুর্নীতি বা স্বজনপ্রীতি সহ্য করিনি। জীবনভর সবার উপকার করার চেষ্টা করেছি, এবং এই বিশ্ববিদ্যালয়ের মঙ্গল কামনা করি।”
এছাড়া, তিনি প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ে তার দীর্ঘ কর্মজীবনের পরিশ্রম এবং দেশের রাজনৈতিক পরিবেশের সঙ্গে তার সম্পর্কিত কিছু ব্যক্তিগত দৃষ্টিভঙ্গিও প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, আওয়ামী লীগের দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে তিনি অংশগ্রহণ করেননি, কারণ তিনি বিশ্বাস করেন যে দেশে কিছু ব্যক্তি বিপুল সম্পদের মালিক হচ্ছেন যা তার জন্য অত্যন্ত দুঃখজনক এবং আঘাতের কারণ।
এদিকে, প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের মালিকানা নিয়ে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সঙ্গে মহিউদ্দিন চৌধুরী পরিবারের আইনি বিরোধ রয়েছে, যার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালনায় কিছু অস্থিরতা লক্ষ্য করা গেছে। তবে, এই ঘটনাটি শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রেক্ষিতে নতুন আলোচনার সৃষ্টি করেছে।
এভাবে, চট্টগ্রামের প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের পদত্যাগ একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে, যেখানে ছাত্রদের আন্দোলন ও প্রশাসনিক দুর্নীতি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।