নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ১৭ নভেম্বর, ২০২৪, ০৮:১১ পিএম

রাজনীতি, অর্থনীতি ও সমাজ বিশ্লেষণমূলক জার্নাল সর্বজনকথা তার দশম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে লেখক-পাঠক মতবিনিময় সভার আয়োজন করেছে। ১৫ নভেম্বর ২০২৪ শুক্রবার, বিকেল ৩:৩০টায় ঢাকা বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের চতুর্থ তলার ৪০১ নম্বর কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভার মূল আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন সর্বজনকথা-র সম্পাদক আনু মুহাম্মদ, নির্বাহী সম্পাদক কল্লোল মোস্তফা, প্রকাশক মোশাহিদা সুলতানা, এবং বিভিন্ন সম্পাদকীয় ও ব্যবস্থাপনা পরিষদের সদস্যবৃন্দ। এছাড়াও দেশের বিশিষ্ট লেখক, গবেষক, শুভানুধ্যায়ী ও পাঠকগণ সভায় অংশগ্রহণ করেন।
দশ বছরের মূল্যায়ন
সভায় সর্বজনকথা-র ১০ বছরের লেখালেখি এবং কার্যক্রম নিয়ে একটি ভিডিও প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে এর কার্যক্রম উপস্থাপন করা হয়। সম্পাদক আনু মুহাম্মদ এ সময় উল্লেখ করেন, সর্বজনকথা শুধুমাত্র একটি পত্রিকা নয়; এটি বাংলাদেশকে সত্যিকার অর্থে একটি সর্বজনীন ও ন্যায্য সমাজ হিসেবে গড়ে তোলার রাজনৈতিক বুদ্ধিবৃত্তিক প্রয়াস।
তিনি বলেন, “টানা ১০ বছর নিয়মিত এবং সময়মতো পত্রিকা প্রকাশ করা আমাদের বড় একটি অর্জন। এটি সম্ভব হয়েছে আমাদের একনিষ্ঠ কর্মী, লেখক, পাঠক এবং শুভানুধ্যায়ীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায়।”
গত দশকের অনির্বাচিত সরকার এবং তথাকথিত "অলৌকিক উন্নয়ন"-এর প্রচারের পেছনের ফাঁকগুলো চিহ্নিত করতে এবং সমাজের প্রকৃত অবস্থা বিশ্লেষণে সর্বজনকথা-র ভূমিকা তুলে ধরে তিনি বলেন, “যেখানে উন্নয়নের প্রচারণা ছিল গণঅভ্যুত্থানকে অযৌক্তিক হিসেবে দেখানোর জন্য, সেখানে সর্বজনকথা দেখিয়েছে সেই উন্নয়নের অন্তর্গত ফাঁক এবং সংকটগুলো।”
লেখক ও পাঠকের অভিজ্ঞতা
সভার উন্মুক্ত আলোচনায় লেখক, পাঠক এবং শুভানুধ্যায়ীরা তাদের অভিজ্ঞতা, সমালোচনা এবং পরামর্শ তুলে ধরেন। চলচ্চিত্র নির্মাতা মোঃ আনোয়ার হোসেন বলেন, “বাংলা ভাষায় চলচ্চিত্র নিয়ে লেখালেখির পরিসর সীমিত। সর্বজনকথা একমাত্র জার্নাল যারা আমার ভিন্নধর্মী লেখা ছাপতে আগ্রহ দেখিয়েছে।”
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ফাতেমা সুলতানা শুভ্রা জানান, তার ধর্ষণ বিষয়ক লেখাটি রাষ্ট্র অংশে প্রকাশিত হওয়ায় তিনি ভীষণ আনন্দিত। তার মতে, “সর্বজনকথা বিষয়টিকে শুধুমাত্র নারীর সমস্যা হিসেবে দেখেনি, বরং এটি রাষ্ট্রীয় কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত করে দেখিয়েছে।”
গবেষণা কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী নাফিসা নাওয়ার নিঝুম জানান, মাগুরার মতো মফস্বল থেকে এসে গবেষণার প্রতি আগ্রহ থাকা সত্ত্বেও শেখার কোনো সুযোগ ছিল না। সর্বজনকথার অনলাইন কর্মশালা তার সেই সুযোগ সৃষ্টি করেছে এবং তার প্রস্তাবিত গবেষণা প্রকল্প নির্বাচিত হওয়ায় তিনি কৃতজ্ঞ।
চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যতের পরিকল্পনা
বক্তারা কোনো বিজ্ঞাপন ছাড়া সর্বজনকথা-র মতো একটি গবেষণা ও বিশ্লেষণমূলক জার্নাল টানা ১০ বছর চালানোর চ্যালেঞ্জ এবং এর গুরুত্বের কথা উল্লেখ করেন। তারা মনে করেন, বর্তমানের রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং গবেষণার সংকটময় পরিস্থিতিতে সর্বজনকথা-র ভূমিকা আরও প্রসারিত হওয়া উচিত।
সভায় পত্রিকার ধরণ, ভাষা এবং প্রচার কৌশল নিয়ে সমালোচনা ও পরামর্শ উঠে আসে। আয়োজকরা জানান, পাঠক ও শুভানুধ্যায়ীদের অংশগ্রহণ তাদের ভবিষ্যৎ কার্যক্রমকে আরও শাণিত করবে।
নতুন লেখকদের প্রতি আহ্বান
সর্বজনকথা-র পক্ষ থেকে নতুন লেখকদের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানানো হয়। আয়োজকরা স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে পরিচালিত এই পত্রিকায় শুভানুধ্যায়ীদের নিজ নিজ দক্ষতা কাজে লাগানোর অনুরোধ করেন।
সংগীত পরিবেশনা ও সমাপ্তি
আলোচনা শেষে গায়ক মুসা কলিম মুকুল তার পরিবেশনার মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।
টানা এক দশক ধরে কোনো বিজ্ঞাপন ছাড়াই সর্বজনকথা দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতার গভীর বিশ্লেষণ উপস্থাপন করে আসছে। এর দশম বর্ষপূর্তি শুধু একটি উদযাপন নয়; এটি বাংলাদেশের বুদ্ধিবৃত্তিক আন্দোলনের একটি স্মারক অধ্যায়।