ঢাকায় আইইএলটিএস প্রশ্নফাঁস চক্রের হোতা গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ১০:০৯ এএম

ঢাকায় আইইএলটিএস প্রশ্নফাঁস চক্রের হোতা গ্রেপ্তার

বাংলাদেশে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ও দুর্নীতিমুক্ত পরীক্ষা হিসেবে পরিচিত আইইএলটিএস এখন বড় ধরনের প্রশ্নবিদ্ধ। রাজধানীতে আইইএলটিএস প্রশ্নফাঁস চক্রের হোতা মো. মামুন খান (৩৭) ও তার সহযোগী পন্না পুনম হালদার ওরফে কেয়াকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় বাংলাদেশে আইইএলটিএস পরীক্ষা সাময়িকভাবে বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

 

শনিবার (১৩সেপ্টেম্বর) ভোরে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। যৌথবাহিনীর এ অভিযানের সূত্রপাত হয় একটি দৈনিক পত্রিকার গোপন অনুসন্ধানের ভিত্তিতে। অভিযানে ৮ লাখ ৩৮ হাজার টাকা নগদ ও আটটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।


পুলিশ জানায়, মামুন ও কেয়া পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষার আগের রাতে নির্দিষ্ট হোটেলে আবাসনের ব্যবস্থা করতেন। সেখানে তাদের মোবাইল ও ইলেকট্রনিক ডিভাইস জমা রেখে রাত ১টার পর মূল প্রশ্ন ও উত্তর সরবরাহ করা হতো। শিক্ষার্থীরা সারা রাত উত্তর মুখস্থ করত এবং পরদিন সকালে মাইক্রোবাস ও মিনিবাসে করে বিভিন্ন পরীক্ষাকেন্দ্রে নেওয়া হতো।

 

প্রশ্নফাঁসের জন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ১.২৫ লাখ থেকে ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হতো। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সাব-অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার শৈলেন চাকমাসহ কয়েকজন সরকারি কর্মকর্তাও এ সুবিধা নিয়েছেন বলে জানা গেছে।


সাম্প্রতিক অনুসন্ধানে মিরাজ হোসেন, প্রিন্স, মেহেদি, গিয়াস ও তারেক আজিজসহ অন্তত পাঁচজনের নাম উঠে আসে। এ বছরের মে মাসে উত্তরা ও মতিঝিলের বিভিন্ন হোটেলে শতাধিক শিক্ষার্থীকে ফাঁস হওয়া প্রশ্নে কোচিং করানো হয়। এমনকি ২৪ মে দুপুরের পরীক্ষার প্রশ্ন সেই দিন সকালেই পাওয়া যায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।


এ চক্রের সঙ্গে বেশ কিছু কোচিং সেন্টার ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মের যোগসূত্র রয়েছে। এজেন্ট তারেক আজিজ দাবি করেছেন, তিনি ২০১৯ সাল থেকে এই ব্যবসায় জড়িত এবং কেমব্রিজ ইংলিশ, আইডিপি বাংলাদেশ ও ব্রিটিশ কাউন্সিলের কিছু কর্মকর্তার সঙ্গে তার যোগাযোগ রয়েছে।


আইইএলটিএস পরীক্ষা বাংলাদেশে পরিচালনা করে ব্রিটিশ কাউন্সিল ও আইডিপি এডুকেশন। তবে আইডিপি বাংলাদেশের আইইএলটিএস অপারেশনের প্রধান এলোরা শাহাব শারমিন এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান। ব্রিটিশ কাউন্সিলের ফুলার রোড অফিস থেকেও কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।


ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “যদি আইইএলটিএস প্রশ্নফাঁস প্রমাণিত হয়, তবে বাংলাদেশে আইইএলটিএস সেন্টার বন্ধ হয়ে যেতে পারে। ভেতরের সংশ্লিষ্টতা ছাড়া এ ধরনের ঘটনা সম্ভব নয়।”

আইইএলটিএস প্রশ্নফাঁসের এ ঘটনা দেশের ভাবমূর্তি ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের জন্য বড় ধরনের হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।