ঢাকা, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫ (শুক্রবার) –৫ সেপ্টেম্বর, বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখের ৫৪তম শাহাদাত বার্ষিকী। জাতি এই দিনে গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করছে সেই অকুতোভয় বীরকে, যিনি মুক্তিযুদ্ধের এক চিরস্মরণীয় অধ্যায় রচনা করেছিলেন। তাঁর বীরত্ব, আত্মত্যাগ ও দেশপ্রেম আজও প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস।
ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ ১৯৩৬ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন যশোর জেলার নড়াইল থানাধীন মহেশখালী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। মাত্র ১৩ বছর বয়সে পিতামাতা হারিয়ে তিনি অভিভাবকহীন হয়ে পড়েন। ১৯৫৯ সালে ২৩ বছর বয়সে ইপিআরে যোগদান করে দিনাজপুর সেক্টরের কুঠিবাড়ি ক্যাম্পে সৈনিক হিসেবে দায়িত্ব পালন শুরু করেন। ১৯৬৫ সালের পাকিস্তান-ভারত যুদ্ধে সাহসিকতার সঙ্গে অংশগ্রহণের মাধ্যমে তিনি প্রশংসিত হন।
১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের গণহত্যার সময় তিনি গ্রামের বাড়িতে ছুটিতে ছিলেন। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর নৃশংসতার খবর পেয়ে তিনি তৎক্ষণাৎ ৪ নং ইপিআর উইংয়ে যোগদান করেন। আগস্টে ৮ নং সেক্টরের নির্দেশে তিনি গেরিলা যুদ্ধে অংশগ্রহণের জন্য যশোর জেলার ছুটিপুর গ্রামে অবস্থান নেন।
৫ সেপ্টেম্বর ১৯৭১, সকাল ৯:৩০ মিনিটে নূর মোহাম্মদ শেখ ৪জন সহযোদ্ধাসহ স্ট্যান্ডিং প্যাট্রলে ছিলেন। পাকিস্তানি সেনারা তিন দিক থেকে আক্রমণ করলে তিনি আহত সহযোদ্ধাদের নিরাপদে সরিয়ে দিয়ে নিজেই বাধাগ্রস্ত গুলিতে শত্রুর দিকে লড়াই চালান। মারাত্মকভাবে আহত হয়ে তিনি শেষ পর্যন্ত নিঃস্বার্থভাবে দেশের জন্য জীবন উৎসর্গ করেন।
বাংলাদেশ সরকার তাঁকে মৃত্যুর পর বীরশ্রেষ্ঠ খেতাবে ভূষিত করে। ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদের সাহস, দেশপ্রেম ও সহযোদ্ধার প্রতি নিঃস্বার্থ দায়িত্ববোধ চিরকাল প্রজন্মের জন্য প্রেরণার প্রতীক হিসেবে থাকবে।