বছরব্যাপী সাম্প্রদায়িকতা বিরোধী কর্মসূচি করবে সাংস্কৃতিক জোট

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১২ ডিসেম্বর, ২০২২, ১২:০৬ পিএম

বছরব্যাপী সাম্প্রদায়িকতা বিরোধী কর্মসূচি করবে সাংস্কৃতিক জোট

বিএনপি-জামায়াতের স্বাধীনতাবিরোধী অপতৎপরতা ঠেকাতে বছরব্যাপী কর্মসূচি চালানোর ঘোষণা দিল সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট।

আজ সোমবার (১২ ডিসেম্বর) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির নসরুল হামিদ মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে ‘বিজয় উৎসব’-এর বিস্তারিত তুলে ধরার পাশাপাশি এ ঘোষণা দেয় সংগঠনটি।

লিখিত বক্তব্যে তারা বলেন, মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে দণ্ডিত সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর পুত্র বিএনপি নেতা হুম্মাম চৌধুরীর বক্তব্য এবং ১০ ডিসেম্বর ঢাকায় এক সমাবেশে বিএনপি ঘোষিত ১০ দফার মধ্যে জঙ্গি দমন আইন বাতিলের দাবি আমাদেরকে শঙ্কিত করে তোলে। এমনি পরিস্থিতিতে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের প্রত্যাশা হলো, অসাম্প্রদায়িক উদারবাদী গণতান্ত্রিক শক্তির ঐক্যবদ্ধ অবস্থান। ধর্ম, বর্ণ, জাতি, গোষ্ঠীনির্বিশেষে সবার জন্য সম–অধিকারের বাংলাদেশ নিশ্চিতকরণে এ ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই।

 

বিএনপি-জামায়াত জোটের সমালোচনায় গোলাম কুদ্দুছ বলেন, আজ বিএনপি মুখে যতই গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের কথা বলুক না কেন, তারাই তো হত্যার রাজনীতি শুরু করেছে। বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে তারা জড়িত। তারাই ২১ আগস্টে গ্রেনেড হামলার সঙ্গে জড়িত।’ সাম্প্রদায়িক ও জঙ্গি গোষ্ঠীর পৃষ্ঠপোষকদের বিরুদ্ধে আমরা সব সময়ই লড়াই-সংগ্রাম অব্যাহত রেখেছি। 

 

মহান মুক্তিযুদ্ধের পরাজিত শক্তিকে সঙ্গে নিয়ে বিএনপি-জামায়াত জোট আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে বানচাল করতে চায়। ৩৩টি রাজনৈতিক দলকে সঙ্গে নিয়ে তারা সক্রিয় হচ্ছে। জামায়াত-বিএনপির বিপক্ষে আমাদের অবস্থান স্পষ্ট।’ জাতীয় কবিতা পরিষদের সভাপতি মুহাম্মদ সামাদ আরও বলেন, ‘আমাদের সাংস্কৃতিক কর্মসূচিকে দেশ-বিদেশে সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে ছড়িয়ে দিতে হবে। তাতে মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের শক্তি আরও সবল হবে।’

 

সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের আয়োজনে কাল মঙ্গলবার বিকেল চারটায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শুরু হচ্ছে বিজয় উৎসব। উদ্বোধন করবেন অভিনেত্রী ফেরদৌসী মজুমদার। গোলাম কুদ্দুছের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী পর্বে আলোচনায় অংশ নেবেন দেশবরেণ্য সাংস্কৃতিক ব্যক্তিবর্গ। এ ছাড়া থাকবে শহীদবেদিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ, জাতীয় সংগীত ও মুক্তিযুদ্ধের গান, বিজয়ের কবিতা আবৃত্তি ও নৃত্য।

এবার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, ধানমন্ডি রবীন্দ্রসরোবর, রায়েরবাজার বুদ্ধিজীবী স্মৃতিস্তম্ভ, মিরপুর-৬ নম্বর সেকশনের মুকুল ফৌজ মাঠ, দনিয়া মাসুদ মঞ্চ, ভিক্টোরিয়া পার্ক, মতিঝিল টিঅ্যান্ডটি কলোনি মাঠ, উত্তরা বঙ্গবন্ধু মুক্তমঞ্চ, পূর্বাচল জয় বাংলা স্কয়ারে বিজয় উৎসবের অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করা হবে। বিজয় মঞ্চে কর্মসূচি শুরু হবে প্রতিদিন বিকেল চারটায়। অনুষ্ঠানে থাকবে একক ও দলীয় সংগীত, নাটক, নৃত্য, একক ও দলীয় আবৃত্তি, শিশু সংগঠনের পরিবেশনা ও স্মৃতিচারণা।

 

সংবাদ সম্মেলনে বিজয় উৎসবের বিস্তারিত তুলে ধরেন সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জোটের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য মুহাম্মদ সামাদ, ঝুনা চৌধুরী, মীর বরকত, মিজানুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক আহকাম উল্লাহ, সহসাধারণ সম্পাদক আহাম্মেদ গিয়াস, সাংগঠনিক সম্পাদক আজহারুল হক আজাদ।