কমলা হ্যারিসের পরাজয়ে ভুল পদক্ষেপগুলো কোথায় ছিল?

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৬ নভেম্বর, ২০২৪, ০৭:১১ পিএম

কমলা হ্যারিসের পরাজয়ে ভুল পদক্ষেপগুলো কোথায় ছিল?

 

যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ নির্বাচনে উপ-রাষ্ট্রপতি কমলা হ্যারিসের পরাজয়কে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বেশ কয়েকটি কারণে উল্লেখযোগ্য বলে আখ্যা দিয়েছেন। ২০২৪ সালের নির্বাচনে তাঁর ভরাডুবি নিয়ে নানা ধরনের মতামত প্রকাশিত হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, তার রাজনৈতিক পদক্ষেপ এবং স্ট্র্যাটেজিক ভুলগুলোর কারণেই এই পরাজয় ঘটেছে। নিচে হ্যারিসের প্রচারণার প্রধান কিছু ভুল নিয়ে আলোচনা করা হলো।

ভোটারদের সাথে সংযোগ স্থাপনের অভাব
কমলা হ্যারিসের নির্বাচনী প্রচারণায় একটি বড় সমস্যা ছিল সাধারণ ভোটারদের সাথে সরাসরি সংযোগ স্থাপনে ব্যর্থতা। ভোটারদের সাথে একটি মানবিক সংযোগ তৈরি করা একজন সফল রাজনীতিবিদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু হ্যারিসের প্রচারণায় এই বিষয়টি তেমনভাবে প্রতিফলিত হয়নি। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত শ্রেণী এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যেও প্রত্যাশার মতো সমর্থন গড়ে তুলতে তিনি ব্যর্থ হন।

দলীয় কৌশলের সমন্বয়হীনতা

হ্যারিসের প্রচারণায় যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্র্যাটিক দলের মধ্যে নিরবচ্ছিন্ন সমন্বয় ও দলীয় কৌশলগত অভাব স্পষ্ট ছিল। তার প্রচারণা টিম বিভিন্ন কৌশল নির্ধারণে দৃঢ় পরিকল্পনার অভাবে ভুগছিল এবং এর ফলে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে নির্ধারিত বার্তা জনগণের কাছে পৌঁছাতে পারছিল না। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এরকম সমন্বয়হীনতা হ্যারিসের জনপ্রিয়তায় প্রভাব ফেলেছে।

বিতর্কে দূর্বল উপস্থিতি
নির্বাচনের সময় সরাসরি বিতর্কে কমলা হ্যারিসের উপস্থিতি তার সমর্থকদের মাঝে একটি বড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি করে। তাঁর বিতর্কে বক্তব্যগুলো বিভিন্ন সময় দুর্বল প্রতীয়মান হয়েছে এবং প্রতিদ্বন্দ্বীদের শক্তিশালী অবস্থানের সামনে তিনি আত্মবিশ্বাসের অভাবে ভুগছিলেন বলে মনে হয়েছে। এতে ভোটারদের কাছে তার নেতৃত্বের দৃঢ়তা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়।

 ঘনঘন কথার পরিবর্তন
হ্যারিসের প্রচারণায় একটি বড় চ্যালেঞ্জ ছিল তার কথার ঘনঘন পরিবর্তন। এই পরিবর্তনের ফলে অনেক ভোটার বিভ্রান্ত হয়ে পড়েন এবং তার মূল বার্তা যথাযথভাবে ভোটারদের কাছে পৌঁছায়নি। উদাহরণস্বরূপ, পরিবেশ সংক্রান্ত তাঁর বিভিন্ন মতামত এবং সামাজিক নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়ে অবস্থান নিয়ে তিনি একাধিকবার ভিন্নমত প্রকাশ করেন, যা ভোটারদের আস্থাহীনতায় পরিণত হয়।

মিডিয়া ও সামাজিক মাধ্যমে সমালোচনা প্রতিরোধে ব্যর্থতা
সমসাময়িক রাজনীতিতে মিডিয়া এবং সামাজিক মাধ্যমের প্রভাব অত্যন্ত ব্যাপক। কমলা হ্যারিসের প্রচারণা তাঁর বিরুদ্ধে নানা ধরনের নেতিবাচক প্রচারণা মোকাবিলায় তেমন সফল হতে পারেনি। বিশেষ করে, তাঁর প্রাসঙ্গিক অবস্থান এবং পদক্ষেপগুলোর উপর সামাজিক মাধ্যমে প্রচারিত নেতিবাচক মতামত নিয়ে যথেষ্ট কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে ব্যর্থ হন, যার ফলে তাঁর সমর্থনে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।

বিতর্কিত নীতি ও অবস্থান
কমলা হ্যারিস বিভিন্ন বিষয়ের উপর বিতর্কিত নীতি ও অবস্থান গ্রহণ করেন যা তার জনপ্রিয়তা কমিয়েছে। অনেকেই মনে করেন, তাঁর কঠোর অভিবাসন নীতি, স্বাস্থ্যসেবা সংক্রান্ত প্রস্তাব এবং করনীতি নিয়ে বিভিন্ন শ্রেণীর মানুষের মধ্যে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। ফলে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বীরা এই দুর্বলতাকে প্রচারণার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে সফল হয়।

নির্বাচনে পরাজয় রাজনৈতিক জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। তবে, সঠিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে এই ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিয়ে পরবর্তী সময়ে একজন রাজনীতিবিদ আরও শক্তিশালী হয়ে ফিরে আসতে পারেন। কমলা হ্যারিসের জন্য এই পরাজয় থেকে শিক্ষা নেয়া এবং ভবিষ্যতের রাজনৈতিক যাত্রায় আত্মসমালোচনা একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হবে।