গুলিস্তানে বিস্ফোরণ: দগ্ধ আরও একজনের মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১১ মার্চ, ২০২৩, ০৯:৪৫ এএম

গুলিস্তানে বিস্ফোরণ: দগ্ধ আরও একজনের মৃত্যু

রাজধানীর গুলিস্তানের সিদ্দিকবাজারে বিস্ফোরণে দগ্ধ আরও একজনের চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে ভয়াবহ ওই বিস্ফোরণে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাড়ালো ২৪ জনে।

 

শনিবার (১১ মার্চ) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। নিহত ব্যক্তির নাম মির্জা আজম (৩৬)। তিনি রাজধানীর হাতিরঝিল থানার মধুবাগ এলাকায় পরিবার নিয়ে থাকতেন। আজমের গ্রামের বাড়ি পটুয়াখালীর বাউফল থানার গোসিংগা গ্রামে।

 

বার্ন ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন ডা. এসএম আইউব হোসেন সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, তার শরীরের ৮০ শতাশ দগ্ধ ছিল। এ নিয়ে ওই বিস্ফোরণের ঘটনায় বার্ন ইউনিটে তিন জনের মৃত্যু হলো। এখনও চিকিৎসাধীন আছেন আরও সাত জন। তাদের মধ্যে একজন আইসিইউতে।

 

নিহতের পরিবার সূত্র সাংবাদিকদের জানান, ওই ভবনের আন্ডারগ্রাউন্ডে বাংলাদেশ স্যানেটানি নামের একটি দোকানে চাকরি করতেন আজম। বিস্ফোরণে দগ্ধ হওয়ার পরে তাকে উদ্ধার করে শেখ হাসিনা বার্ন ইনস্টিটিউটে নিয়ে আসা হয়। পরিবারটি আরও জানায়, আজম এক সন্তানের জনক এবং তার স্ত্রী অন্তঃসত্ত্বা। 

 

এদিকে ঘটনাস্থলে ভবনটির বেসমেন্টে দুই তিন ফুট পানি জমে আছে বলে জানিয়েছেন ওয়াসার লাইনম্যান আল আমিন।

 

তিনি জানান, সেই পানি আপাতত মেশিন দিয়ে অপসারণ করা হচ্ছে। ভেতরে একটি সার্ভিস লাইন পেয়ে ওয়াসা সেটি বন্ধ করেছে। আর কোনো লাইন থেকে পানি বের হচ্ছে কিনা তা ভেতরের পানি এবং ভাঙাচোরা টুকরো ভরে থাকায় দেখা যাচ্ছে না। 

 

অপরদিকে লালবাগের ডিসি জাফর হোসেন বলেছেন, লালবাগে সব সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে সিদ্ধান্ত দেয়া হবে ভবনটি দোকান খোলার জন্য যথেষ্ট নিরাপদ কিনা। মামলার তদন্ত মূলত ডিবি করছে। অবহেলাজনিত হত্যার জন্য ইতিমধ্যে মামলা হয়েছে। সেই সঙ্গে আসামিদের রিমান্ডেও নেওয়া হয়েছে বলেও জানান ডিসি জাফর।

 

সিটিটিসির ডেপুটি কমিশনার মিশুক চাকমা বলেছেন, পানি ও ভবন অনিরাপদ থাকায় এতোদিন ঘটনাস্থলের কাছে পৌঁছাতে পারিনি। এখন ভবন খানিকটা নিরাপদ এবং পানি অপসারণ করায় আমরা ভেতরে উৎপত্তিস্থলে ঢুকে তদন্ত করার চেষ্টা করছি। আলামত সংগ্রহ করতে আমাদের টিম ভবনের নিচে ঢুকবে। 

 

গত মঙ্গলবার (৭ মার্চ) সিদ্দিকবাজারের একটি ভবনে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে দগ্ধ ১১ জনকে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। পরে একজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

 

বুধবার দিনগত রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় একজনের মৃত্যু হয়। এরপর বৃহস্পতিবার রাতে ইয়াসিন নামে একজন মারা যান। আরও একজন মারা গেলেন আজ।